শুল্ক এড়াতে বিদেশী পণ্যের উৎস গোপন করে সেগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি হিসেবে দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি করেছে এশিয়ার দেশটি। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এড়াতে বিভিন্ন চীনা পণ্যকে এভাবে রফতানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সিউলের। খবর রয়টার্স।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাস্টমস বিভাগের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ২ হাজার ৯৫০ কোটি ওন বা ২ কোটি ডলারের বেশি মূল্যমানের পণ্যে উৎস দেশসংক্রান্ত জালিয়াতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ পণ্যই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত ছিল।
গত বছর এ ধরনের জালিয়াতির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮০ কোটি ওন। সেসব রফতানি পণ্যেরও ৬২ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রগামী।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, শুল্ক বাধার কারণে প্রতিবেশী চীনের মতো কিছু দেশের কোম্পানি দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘বাইপাস’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে। কারণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো।
ট্রাম্প চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করলেও পরে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। অন্যদিকে বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করছে। ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারিতে ৩৩০ কোটি ওন মূল্যের ব্যাটারিতে ব্যবহৃত ক্যাথোড উপকরণ চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ওইসব পণ্য ‘মেড ইন কোরিয়া’ বলে দাবি করা হয়। মূলত উচ্চ শুল্ক এড়াতেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এ কাজ করেছে।
গত মাসে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ওন মূল্যের নজরদারি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ চীন থেকে এনে দক্ষিণ কোরিয়ায় অ্যাসেম্বল শেষে রফতানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। চীনা প্রযুক্তির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এমন কাজ করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় কোম্পানিগুলো সুরক্ষিত রাখতে অবৈধ রফতানি বন্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার কাস্টমস বিভাগ একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে।